Meader Ads

Responsive Advertisement

ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে প্রাইভেট হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর

 



পটুয়াখালীমহিপুর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় হাসপাতালের গ্লাস, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকস্মিক হামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও কর্মরত স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপত্তার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম নেয়।

হামলায় আহত মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুই হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে সিয়াম মাহমুদ আকরাম, মো. বাপ্পী, ইসমাইল, রিফাত পারভেজ, আব্দুল্লাহ, সৌরভ, ইমরান, আরিফ ও জয়ানালসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

অভিযুক্ত সিয়াম দাবি করেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ও কামরুল তাদের কয়েকজনকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসপাতালে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কেয়ার মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, হঠাৎ একদল যুবক হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালায়, এতে রোগী ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, দলে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খান জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments